প্রশ্নঃ- ফতোয়া এর আভিধানিক
ও পারিভাষিক অর্থ কি? পূর্বযুগে মনীষীদের
ফতোয়াতে কি কি সতর্কতা অবলম্বণ করতে হবে? ফতোয়ার ইতিহাস কি? মুহাম্মদ (সাঃ), সাহাবীগন এবং তাবিঈদের যুগে ফতোয়া কেমন ছিল? ফতোয়ার হুকুম কি? তা দেওয়া উচিৎ কি উচিৎ নয়? ফতোয়ার মর্যাদা কি? যথেষ্ঠ জ্ঞান
ছাড়া ফতোয়া দেওয়া যাবে কিনা? ফতোয়ার ভিত্তি কি? ফতোয়া দানের
যোগ্যতা কার কার থাকা উচিৎ? মুফতীর যোগ্যতা কি ? ফতোয়া দানের
পদ্বতি কি কি? ফতোয়া গ্রহণকারীর কি
কি দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে? ফতোয়া, বিচারক ও বিচারপতি কি? ফতোয়া লিখার ভাষা ও নিয়ম কি? ভুল ফতোয়ার সমাধান কি? বাংলাদেশ এবং
ফতোয়া এর প্রেক্ষাপট কি?
ভূমিকাঃ ফতোয়া ইসলামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।ফতোয়ার গুর”ত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলঃ
আভিধানিক অর্থঃ
ফাতওয়া শব্দটি একবচন হিসেবে ফাতওয়া(فتوى) রূপে ব্যবহৃত হয়। বহুবচন “ফাতাবী” (فتاوى)। ফকীহ কর্তৃক প্রদত্ত অভিমত হল ফতোয়া (فتوى)। কেউ কেউ বলেছেন এটি
একটি বিশুদ্ব শব্দ।
আবার কেউ বলেছেন তা আরবী আল-ফুতওয়া
থেকে এসেছে যার অর্থ হল অনুগ্রহ, বাদন্যতা, দানশীলতা, মনুষত্ব, শক্তি প্রদর্শন।
আবার কারও মতে ফতোয়া আফতা (افتى) ক্রিয়াপদ থেকে
আগত বিশেষ্যপদ। আফতা অর্থ হল কোন বিষয় বিষদভাবে প্রকাশ করা। এ থেকে গঠিত ক্রিয়ামূল
ইফতা অর্থ হল ফতোয়া প্রদান করা।
আবার কেউ বলেছেন তা ফাতা (فتى) থেকে এসেছে যার
অর্থ হল তারুণ্য, নতুনত্ব, স্পষ্টকরণ, ব্যাখ্যা।
পারিভাষিক অর্থঃ
ইমাম আবূ রাগিব ইসফাহানী (রহঃ) বলেন, “জটিল বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান হল ফতোয়া।”
মুফতী আমিমুল ইহসান বলেন, “ফতোয়া হল শরীয়াতের বিধান।”
আল্লামা শামী (রহঃ) বলেন, “আল-ফতোয়ার মূল উৎস হল আল-ফাতা আর আল-ফাতা বলা হয় শক্তিশালী যুবককে।এর
মাধ্যমে ফাতওয়ার নামকরণের কারণ হল মুফতী সাহেব প্রশ্নকারীকে উত্তর দানের মাধ্যমে দ্বীনের
উপর চলার ব্যাপারে শক্তির যোগান দিয়ে থাকেন।”
আধুনিক পণ্ডিতগণ বলেন,“ফতোয়া হল ইসলামী আইনে বিশেষজ্ঞ কর্তৃক আনুষ্ঠানিক আইনগত মতামত
প্রদান।”
তাফসীরকারকগণ বলেন, “কোন ব্যক্তির জিজ্ঞাসার জবাবে দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরীয়াতের
বিধান স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হল ফতোয়া।”